নারী দিবস প্রতিপাদ্য…

বাংলার জাতীয় কবি ও সাম্যবাদের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘নারী’ কবিতার চরণ ধরে বলতে হয় “ বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।” পৃথিবী সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকে নারীর অবদান ও তাৎপর্যের পরিধী সীমাহীন।তেমনি আমরা লক্ষ্য করলে দেখতে পাই–কবি গুরুর ‘হৈমন্তী’, শরৎচন্দ্রের ‘বিলাসী’, জীবনানন্দ দাসের ‘বনলতা সেন’, ঈশ্বরচন্দ্রের ‘সতীদাহ প্রথার উচ্ছেদ’,উইলিয়াম বাটলার ইয়েটসের ‘ টু হেলেন’, হুমায়ূন আজাদের ‘নারী’, শেক্সপিয়রের ‘রোমিও ও জুলিয়েট’, ‘এন্টোনিও এন্ড ক্লিউপেট্রা’, স্পেন্সারের ‘দি ফেয়ারি কুইন’, এন্ড্রো মার্ভেল এর ‘ টু হিস কয় মিসট্রেস’, জসীম উদ্দীনের ‘রাখালী’, আলাওলের ‘পদ্মাবতি’, এবং আরও অনেক নিবেদিত মনিষীগণ নারীর অধিকার ও সাম্যতা নিয়ে কাব্য ও সাহিত্য রচনা করে গিয়েছেন । আসন্ন মার্চের ৮ তারিখে নারীর প্রতি সম অধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হবে ।এই দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলে সরকার লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হলো। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ; জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয়ঃ ১৯১১খ্রিস্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে লাগল। বাংলাদেশেও ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতার লাভের পূর্ব থেকেই এই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে। অতঃপর ১৯৭৫ সালে খ্রিস্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে সারা পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অভীপ্সা নিয়ে। বিশ্বের শীর্ষ ২৫ জন ক্ষমতাধর নারী: এঞ্জেলা মার্কেল, জার্মান চ্যান্সেলর। হিলারি ক্লিন্টন, মার্কিন যুক্তরাষ্টের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রি ও ইউএসের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী । মেলিন্ডা গেটস্, ৫০, বিল এবং মেলিন্ডা গেটস্ ফাউন্ডেশন এর কো-চেয়ার।এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার সূচনা লগ্ন ১৯৯৮ সাল হতে, এটি প্রায় ১৭ বিলিয়ন এর বেশি অর্থ মঞ্জুর করতে প্রতিজ্ঞ। জেনেট ইয়েলেন, ৬৮, ওয়াশিংটনের ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার। ম্যারি ব্যারা, ৫৩, জেনারেল মটরস্ এর সিইও । ক্রিস্টিন ল্যাগারড্, ৫৯, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড । দিলমা, ৬৭, ব্রাজিল এর প্রেসিডেন্ট। শেরিল শেন্ডবাগ এ, ৪৫, ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সুসান ওজুচিকি, ৪৬, ইউটিউব সিইও। মিশেল ওবামা, ৫১, ফার্স্ট লেডি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পার্ক জেনুন-হাই, ৬৩, দক্ষিণ কোরিয়া এর প্রেসিডেন্ট। অপরাহ উইনফ্রে, ৬১, মিডিয়া মোগল। ভার্জিনিয়া রমেটি, ৫৭, আইবিএম এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। মেগ হুইটম্যান, ৫৮, সিইও, হিউলেট-প্যাকার্ড। ইন্দ্র নুই, ৫৯, সিইও, পেপসিকো। ক্রিস্টিনা কারচার, ৬২, সভাপতি, আর্জেন্টিনা। আইরিন রসেনফিল্ড, ৬২, সিইও, মনডেলেজ আন্তর্জাতিক। এনা বটিন, ৫৪, চেয়ার, স্যান্টেন্ডার গ্রুপ। অবীগল জনসন, ৫৩, সিইও, ফিডালিটি ইনভেস্টমেন্টস। ম্যারিলিন হিউসন, ৬১, চেয়ার, লকহিড মার্টিন। বেয়ন্স নোলেস, ৩৩, মিউজিশিয়ান এবং উদ্যোক্তা। মারিশা মায়ার, ৩৯, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ইয়াহু। হেলেন ক্লার্ক, ৬৫, প্রশাসক, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি। সাফরা ক্যাটস্, ৫৩, সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওরাকল। এনজেলা এহরেন্ডস্, ৫৪, সিনিয়র সহ-সভাপতি, অ্যাপল। আরও বিস্তারিত: http://www.forbes.com/power-women/list/#tab:overall এছাড়াও :http://www.forbes.com/power-women/#/tab:overall তথ্য সূত্র: গুগল ও উইকিপিডিয়া-বিশ্বকোষ ।