ডায়াবেটিস প্রতিকার……

ডায়াবেটিস আতঙ্ক ও এর প্রতিকার: জাতীয় ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস : ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে ড. মো. ইব্রাহিমের উদ্যোগে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই এই দিনটিকে ডায়াবেটিস সচেতনতা তৈরিতে উপজীব্য করা হয়। এছাড়াও প্রতি বছরই ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত হয়। ডায়াবেটিসের ইতিহাস: গ্রীক শব্দ `diabainein’ যার মানে হল siphon – ‘তরলপদার্থ-নির্গমনার্থ বক্রনলবিশেষ’ যার আভিধানিক প্রকাশ হল ‘go through’- কোন কিছুর মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত-।পরবর্তীতে ল্যাটিন শব্দ ‘mellitus’ যার মানে হল ‘honeyed or sweet ’ যার মানে হল মধু বা মিষ্টি ।সুতরাং যখন কোন কারনে রক্তে এবং মুত্রে- চিনি/মধু/মিষ্টি জাতিয় তরলপদার্থ সৃষ্টি হয় বা খুজে পাওয়া যায় তখন এই সকল সমস্যা জনিত কারণই হল ডায়াবেটিস । এর ফলে শরীরে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোনের অভা্ব দেখা দেয় ।আর ধিরে ধিরে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে আসে । এবং অন্য কোন সামান্য অসুখ একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীকে ধিরে ধিরে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেয় । ডায়াবেটিস নতুন কোন রোগ নয়, এর ইতিহাস অনেক দিনের। এই রোগটি খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ সালে শনাক্ত করা হয় মিসরে। সে সময় এর নাম দেওয়া হয় অতি দ্রুত মূত্র শেষ। অনেকটা একই সময়ে ভারতে এই রোগ শনাক্ত হয়। তখন এর নাম রাখা হয় মধুমেহ অর্থাৎ মধুমূত্র। ডায়াবেটিস রোগীর মূত্রে পিঁপড়া ভিড় জমায় বলেই এই নামকরণ। ডায়াবেটিস কি: দেহযন্ত্র অগ্ন্যাশয় যদি যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা শরীর যদি উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয়, তাহলে যে রোগ হয় তা হলো ডায়াবেটিস বা বহুমুত্র রোগ। তখন রক্তে চিনি বা শকর্রার উপস্থিতিজনিত অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। ইনসুলিনের ঘাটতিই হলো এ রোগের মূল কথা। ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ। আমাদের শরীরে ইনস্যুলিন নামের হরমোনের সম্পূর্ণ বা আপেক্ষিক ঘাটতির কারণে বিপাকজনিত গোলযোগ সৃষ্টি হয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এক সময় তা প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। এই সামগ্রিক অবস্থাকে ডায়াবেটিস বলে। ডায়াবেটিস একটি মারাত্মক রোগ। কেউ কেউ একে অন্যান্য সকল মারাত্মক রোগের জননী বলে। কাঠের সাথে ঘুণের যে সর্ম্পক, শরীরের সাথে ডায়াবেটিসের সে সম্পর্ক। অর্থাৎ কাঠে ঘুণ ধরলে যেমন এর স্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে যায়, তেমনি ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তাড়াতাড়ি শরীর ভেঙ্গে পড়ে। আমাদের হার্ট, কিডনী, চোখ, দাঁত, নার্ভ সিষ্টেম-এ গরুত্বপূর্ণ অংগগুলো সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হতে পারে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে। এই রোগের কারণ: মানব দেহের ইনসুলিন নামের হরমোনের সম্পূর্ণ বা অপেক্ষিক ঘাটতির কারণে বিপাকজনিত গোলযোগ সৃষ্টি হয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এক সময় তা প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। এইভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়ে থাকে । খুবই অসুস্থ বোধ করা; বেশী ঘাম হওয়া; খুবই ক্ষুধা পাওয়া; শরীর কাঁপতে থাকা; অচেতন হয়ে যাওয়া; শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা ইত্যাদি। খুবই ঘনঘন প্রস্রাব করা এবং প্রস্রাবে গ্লুকোজের মাত্রা খুবই বেড়ে যাওয়া; খুব বেশী পিপাসা লাগা এবং খুবই ক্ষুধা লাগা; বমি বমি ভাব, দূবর্লতা বোধ, শ্বাস কষ্ট হওয়া, নিস্তেজ বোধ করা এবং চোখে কম দেখা। এই রোগের প্রতিকার: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: আগেই বলা হয়েছে যে ডায়াবেটিস রোগের কোন ভাইরাস বা কোন এজেন্ট আছে কিনা তা আবিষ্কৃত হয়নি। তাই ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণ করেই রোগীদের ভাল থাকতে হবে। এ জন্য পরিপূর্ণ শৃংখলাবদ্ধ জীবন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোগী যদি নিজে চান যে তিনি ভাল থাকবেন, তবে ডায়াবেটিস সুনিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং পরিপূর্ণ স্বাভাবিক জীবন যাপণ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে অবশ্য পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহযোগিতা প্রয়োজন। খ্যাদ্যাভাস: ১. ডায়াবেটিক রোগীদের খাদ্যাভাস এমনভাবে গড়ে তোলা দরকার যাতে শরীরের ওজন কাম্য সীমার উপরে বা নীচে না যায়। ২. খাদ্য তালিকায় ভাত, রুটি ইত্যাদির পরিমান কমিয়ে পরিবর্তে শাকসব্জী বাড়িয়ে দিতে হবে; আঁশযুক্ত সাক শবজী প্রচুর পরিমানে খাওয়া যাবে। ৩. মিষ্টি জাতীয় খাবার (কেক, পেস্তি, জ্যাম, জেলি, মিষ্টি, ঘনীভূত দুধ, মিষ্টি বিস্কুট, সফট ড্রিক, চায়ে চিনি ইত্যাদি) খাওয়া যাবেনা। ৪. নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেতে হবে। ঘি, মাখন, চর্বি, মাংস ইত্যাদি কম খেতে হবে। ৫. যথা সময়ে ঘুমাতে হবে এবং সকল ধরণের দুশ্চিন্তা হতে মুক্ত থাকতে হবে। ৬. ধূমপান, মদ পান এবং হোটেলের খাবার পরিপূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে। ব্যায়াম : শরীর সুস্থ রাখতে হলে ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই। শরীরের জড়তা দূর, ধমনী-শিরায় রক্ত চলাচল বৃদ্ধি ও ইনসুলিন উৎপাদন ও ব্যবহারের বৃদ্ধি- ইত্যাদি কারণেই ব্যায়াম অতি জরুরী। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, যাঁরা দৈহিক কাজ করেন না এবং অলস জীবন যাপন করেন তাঁরা প্রায় ডায়াবেটিসে ভুগে থাকেন। এ জন্য যাঁরা ডায়াবেটিস আক্রান্ত তাঁদের দৈনিক কমপে ৪৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যয়াম করতে হবে। দৈনিক ৪৫ মি: হাঁটলে খাদ্যাভাস সঠিক থাকলে, এবং দৈহিক ওজন কাম্য সীমার মধ্যে থাকলে টাইপ-২ ভুক্ত ডায়াবেটিক রোগীদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যা আমাদের করা দরকার তা হলো মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশিত পথে চলা এবং নৈতিকতাবোধ উজ্জীবিত হয়ে প্রতিটি কাজ করা। এর ফলে জীবনের প্রতিটি তরে শৃংখলা স্থাপিত হবে। আর শৃংখলাই হলো ডায়াবেটিসসহ সকল মারাত্মক রোগের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিকার। তথ্য সূত্র: গুগল ও এনসাইক্লোপেডিয়া-বিশ্বকোষ ।