গবেষণামূলক রচনা……

“তোমার সৃষ্টির পথ”–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি বিচিত্র ছলনাজালে, হে ছলনাময়ী। মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছ নিঁপুণ হাতে সরল জীবনে। এই প্রবঞ্চনা দিয়ে মহত্ত্বেরে করেছ চিহ্নিত; তার তরে রাখ নি গোপন রাত্রি। তোমার জ্যোতিষ্ক তারে যে পথ দেখায় সে যে তার অন্তরের পথ, সে যে চিরস্বচ্ছ, সহজ বিশ্বাসে সে যে করে তারে চিরসমুজ্জ্বল। বাহিরে কুটিল হোক, অন্তরে সে ঋজু, এই নিয়ে তাহার গৌরব। লোকে তারে বলে বিড়ম্বিত। সত্যেরে সে পায় আপন আলোকে-ধৌত অন্তরে অন্তরে। কিছুতে পারে না তারে প্রবঞ্চিতে, শেষ পুরস্কার নিয়ে যায় সে যে আপন ভাণ্ডারে। অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে সে পায় তোমার হাতে শান্তির অক্ষয় অধিকার।”…..রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । গবেষণার পরিক্রমা…………………. “পৃথিবীর সকল ভিন্ন ভিন্ন প্রতিটি আকারে, স্বরুপে ও ভাবে কখনই দুটি নয় স্বভাবে শুধুমাত্র একটি প্রকাশে প্রকাশে তার রুপের অভ্যুদয়।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পৃথিবী থেকে চির বিদায় নেয়ার পূর্বে শেষ কিছু কথা বলে যান “তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি…… অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে সে পায় তোমার হাতে শান্তির অক্ষয় অধিকার ।” চরম অভিমান, মনক্ষুন্নতা আর বিদ্বেষানলের মধ্য দিয়ে অতৃপ্ত ও অব্যক্ততাধীন সুর-ধারায় ঈশ্বরতত্ত্বের এক মায়াজাল ও ছলনার অবলীলা অশ্রুধারার ন্যায় হৃদয় মাঝে প্রস্ফূটিত হয়েছে যাবার বেলায় । এযেন মনিবের প্রতি তার পোষ্য ও বিশ্বস্ত কর্মীর অপ্রাপ্ত অভিমান আর শেষ না হওয়া রসাত্মক উগ্রতা । এর নিরব ভাষা বুঝার ক্ষমতা রাখে শুধুমাত্র ঐ শ্রদ্ধেয় মনিব ।কেন আজ শিষ্যের এই ব্যথার প্রতিদান। কবিগুরুর ভাষাতেই বলতে হয় “সহজ কথা খুব সহজে যায়না বলা।” প্রতিটি আবেগ আর প্রতিক্রিয়া শুরু হয় চরম অনুভূতির কেন্দ্র বিন্দু থেকে ।চিন্তন আর অচিন্তন এর বসবাস খুবই কাছাকাছি যার একটি শুরু হলে অন্যটির শেষ হয়। আর অন্যটির সমাপ্তিতে আর একটির সূচনা ।সব কিছুর নিয়ন্ত্রক এক অদৃশ্য চেতনা যা আকীর্ণ, অচীন্তন আর মায়াবী অদেখা; ভাবনার নিরন্তর ও উত্তরহীন মতান্তর ।ভাষাহীন ভাবধারার ছলনাজাল ।দৃশ্যহীন দর্শন, স্বপ্নময় অজানা, চিরজয়, নির্ভীক-অনুভয়, অনুনয়…………..অনুশয়……………………..